![]() |
প্রতীকী ছবি |
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ :
নিহত তাহিয়া তাসনিম ওই ভবনের বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলামের মেয়ে। তার বাবা জানান, এক বছর আগে তাহিয়ার সঙ্গে সাগরের বিয়ে হয়। পরে তাহিয়া জানতে পারেন, তার স্বামী আগেও বিয়ে করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তালাক দিয়ে তাকে (তাহিয়াকে) বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে তাহিয়া শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, "আমরা মঙ্গলবার তাহিয়ার স্বামীর পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। সমাধান না হলে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমার মেয়েকে হত্যা করা হলো।"
ঘটনার বিবরণ :
তাহিয়ার বাবা আরও বলেন, ঘটনার সময় বাসায় তাহিয়া একা ছিলেন, তার মা কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি নামাজে যাওয়ার আগে মেয়েকে বলে যান, কেউ এলে দরজা যেন না খোলে।
কিন্তু তাহিয়ার স্বামী দারোয়ানের মাধ্যমে দরজা খুলে বাসায় প্রবেশ করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফিরে তাজুল ইসলাম দেখেন, খাটের পাশে মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। মুখে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সাগর তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।
পুলিশের বক্তব্য :
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যাশৈনু জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাহিয়ার স্বামী বাসায় আসেন। দরজা না খুললে তিনি দারোয়ানকে ডেকে আনেন, এরপর তাহিয়া দরজা খুললে দারোয়ান নিচে চলে যান।
১৫ মিনিট পর তাহিয়ার স্বামী বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বাবা বাসায় ফিরে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে আটকানো। দরজা খুলে তিনি দেখেন, তাহিয়ার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে, আর ফ্যানের সঙ্গে একটি ছেঁড়া ওড়না ঝুলছে।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।